আজকের তারিখঃ20 June, 2020

সবসময় খুশি থাকার উপায় – (অবশ্যই পড়ুন)

মনে করুন, ছোট বেলায় আপনি কত হাসি খুশি ছিলেন তাইনা? সবসময় হাসি খুশি থাকতেন। আপনাকে খুশি করার জন্য আপনার মা ই যথেষ্ট ছিলো। তারপর ঠিক কি এমন হয়ে গেলো যে আজ আপনি খুশি থাকার উপায় খুজতে এলেন?

আজ এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুজে বের করব। এবং সব শেষে খুশি থাকার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

সম্পূর্ণ পোস্ট টি পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

যখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম, তখন শুধুমাত্র মায়ের আদর আর মায়ের কোমল সংস্পর্শই আমাদের হ্যাপি থাকার জন্য যথেষ্ট ছিলো।

তারপর আরেকটু বড় হলাম,বাবা- মায়ের সাথে সাথে যোগ হলো ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব। তারপর যখন আরো বড় হলাম তারপর খুশি থাকার জন্য একজন লাইফ পার্টনারের প্রয়োজন অনুভব হতে লাগলো।

এবং তারপর ভালো জব, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি অনেক কিছুই তালিকায় যোগ হতে লাগলো। যত কন্ডিশন যোগ হতে লাগলো হ্যাপিনেস ততটা কমে যেতে লাগলো।

এত শত প্রয়োজন, কন্ডিশনের ভীরে নিজের হ্যাপিনেস টাই হারিয়ে ফেললাম।

এতক্ষণ পর্যন্ত কি আপনার কাছে পরিষ্কার? আশা করছি কিছুটা বুঝাতে পেরেছি।

অনেক ছোট বেলায় খুশি থাকার জন্য আমরা শুধুমাত্র মায়ের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। তারপর কিছুটা বড় হয়ে বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের আরো অনেকের উপর নির্ভরশীল হতে থাকলাম।

তারপর লাইফ পার্টনার উপর নির্ভরশীলতা। শুধুমাত্র নির্ভরশীলতা নয়, আমরা এইসব মানুষদের থেকেই একটা বড় এক্সপেক্টেশন রাখি।

কিন্ত বাস্তবতা হলো বেশিরভাগ সময়েই কেও আমাদের এক্সপেক্টেশন অনুযায়ী বিহেভ করতে রাজি নয় বা কেও আমাদের এক্সপেক্টেশন পূরণ করতে চায় না।

এই এক্সপেক্টেশন টাই আমাদের সব থেকে বড় ভূল।

কিন্ত কেন সব থেকে বড় ভূল? লিখছিঃ

খুশি থাকার পথে সব থেকে বড় বাধা হলো এক্সপেক্টেশন

এক্সপেক্টেশন ২ ধরনের হয়ে থাকে

  • বাহ্যিক এক্সপেক্টেশন (Outer World Expectation)
  • ভিতরের এক্সপেক্টেশন (Inner World Expectation)

বাহ্যিক এক্সপেক্টেশন টা হলো আপনি অন্যের থেকে যে যে জিনিস গুলো আশা করেন সেগুলো। যেমনঃ আপনি আশা করে আছেন যে আপনার সামনের বেঞ্চে বসা বন্ধু আপনাকে এক্সামে হেল্প করবে বা কিছুদিন পর আপনার বস আপনাকে জবে প্রমোশন দেবে ইত্যাদি।

আর ভিতরের এক্সপেক্টেশন গুলো হলো আপনি নিজে নিজের থেকে যেগুলো আশা করেন বা এক্সপেক্ট করেন। যেমন আপনি চান আগামী ১ মাসের মধ্যে সিলেবাস কমপ্লিট করতে বা ২ মাসে ৫ কেজি ওজন কমাতে।

সব থেকে মজার ব্যপারটা হলো আমরা নিজেদের এক্সপেক্টেশন নিজেরাই পূরণ করতে পারিনা, আবার ঠিকই অন্যদের থেকে অনেক কিছু এক্সপেক্ট করে বসে থাকি।

আপনি ভেবে ছিলেন আগামীকাল থেকে খুব ভোরে উঠবেন, মর্নিং ওয়াকে যাবেন, নিয়মিত পড়াশোনা করবেন। আপনি কি পেরেছেন?

আরেকটা মজার ব্যপার হলো আমাদের নিজেদের মন, দেহ, ব্রেইন আমাদের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী চলেনা। যদি চলতো তাহলে আমরা খুশি থাকার হরমোন ডোপামিন ইচ্ছা মত রিলিজ করে সব সময় খুশি থাকতে পারতাম।

তারপরেও আমরা অন্যদের কন্ট্রোল করার চেষ্টা করি, অন্য মানুষদের উপর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নির্ভর হয়ে পড়ি আর এক্সপেক্টেশনও রাখি অনেক বেশি।

যেইটা বর্তমানে আমাদের মন খারাপ থাকার সব থেকে বড় কারন।

Often People Want to Control Something They Have No Control Over

তাহলে কি আমরা নিজেদের প্রতি বা অন্যের প্রতি এক্সপেক্টেশন করবো না? লাইফে এগিয়ে যাব কি করে?

লাইফে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক্সপেক্টেশনের প্রয়োজন পড়েনা। আপনি বিশ্বের সব থেকে সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়লেই বুঝবেন।

জাকারবার্গ কখনো ধারণা করেনি যে তার প্রতিষ্ঠান পুরো পৃথিবীকে এভাবে বদলে দেবে। স্টিভ জবস, জেব বেজোস, বিল গেটস তারা সবাই শুধু তাদের কাজকে ভালোবাসত আর তারা ছিলো প্রচন্ড হার্ডওয়ার্কিং, ফুল্লি ডেডিকেডেট আর কন্সিস্টেন্ট।

এক্সপেক্টেশন যত বেশি হবে ততটাই হতাশা বাড়বে, তাই যতটুকু এক্সপেক্ট না করলেই নয় ঠিক ততটুকুই করুন। যেমন আপনি একটা গোল সেট করলেন আগামী ৩০ দিন আপনি প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে পড়বেন।

গোল এচিভ করার এক্সপেক্টেশন আপনার মধ্যে থাকতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। এবং নিজের এক্সপেক্টেশন পূরণ করার জন্য নিজের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

কিন্ত, অন্যের থেকে যত বেশি এক্সপেক্ট করতে থাকবেন, নিজের হ্যাপিনেসের সাথে ঠিক ততটাই কম্প্রোমাইজ করতে থাকবেন।

don't expect from others to stay happy

বাহ্যিক এক্সপেক্টেশন আর আমাদের হ্যাপিনেস

আমার অই বন্ধুটা আমার সাথে এভাবে বিট্রে করলো 🙁 আমি ত ওর প্রয়োজনে সব সময় পাশে থেকেছি। ও কেন থাকলো না।

আমায় কেন কিছু টাকা ধার দিলো না সে? কেন এক্সামে দেখালো না? কেন আমার গার্লফ্রেন্ড ওর ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ডের ছবিতে লাভ রিয়েক্ট দিলো?

অফিসের বস কেন প্রমোশন দিলোনা? কেন অই পোলা বার্থডে উইশ করলো না?

আরে ভাইরে ভাই, আপনি একা কত মানুষকে কন্ট্রোল করবেন? কেও কেন আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী চলবে? আপনি নিজেই ত নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে পারেন না।

don't expect too much if you want to stay happy

প্রথমত,

দুনিয়ার মানুষের প্রতি এক্সপেক্টেশন একদম কমিয়ে ফেলতে হবে। যতটুকু না রাখলেই নয়। আপনাকে পৃথিবীর কেও খুশি করতে পারবে না। কেও আপনার প্রয়োজন বা ইচ্ছা পূরণ করার জন্য বসে নেই।

আপনাকে বুঝতে হবে যে একেক জনের পথ একেক রকম। তারা তাদের জীবন তাদের নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী চালানোর চেষ্টা করছে।

আর আপনি যদি মনে করে থাকেন যে আপনার রিয়েল লাভার আপনার মন পড়তে পারে তাহলে আপনি বাস্তবতা থেকে অনেকটা দূরে । পৃথিবীতে কেও কারো মন পড়তে পারে না। আপনার মন পড়ে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী কেও বিহেভ করবে না।

তবে অনেকক্ষেত্রেই আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী অনেকে বিহেভ করতে পারে, এবং তার পরেই তাদের প্রতি আমাদের এক্সপেক্টেশন আরো বেরে যায় আর নির্ভরশীলতাও বেরে যায়।

অনেক বেশি কমপ্লিকেটেড লাগছে কি?

মানুষের প্রতি নির্ভরশীলতা আর এক্সপেক্টেশন রাখা যাবে না। আপনার এসাইনমেন্ট আপনার বন্ধুকে দিয়ে না করিয়ে নিজে করুন। পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন নিন এমন ভাবে যেন আপনার কারো সাহায্যের প্রয়োজন না পরে।

যদি তারা সাহায্য করতে চায় সেই মুহুর্তে তাহলে তাদের ওয়েলকাম জানান। কিন্ত কোন মানুষের সাহায্যের জন্য এক্সপেক্ট করে থাকা যাবে না।

মানুষকে সাহায্য করুন নিঃস্বার্থে

কাওকে কোন ফেভার করলে বা কোনভাবে সাহায্য করতে পারলে তা নিঃস্বার্থভাবে করুন। কখনো আশা করে থাকবেন না যে সে ও আপনাকে আপনার বিপদে সাহায্য করবে। যদি সে করে তাহলে ত ভালো।

বেশিরভাগ মানুষই অকৃতজ্ঞ। আর বেশিরভাগ মানুষই স্বার্থপর। এই সাধারণ বাস্তবতাটে মেনে নিতে শিখুন।

কাওকে ভালোবাসলেও নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসুন, জরুরী নয় যে সেও আপনাকে ততটাই ভালোবাসবে। ততটা এক্সপেক্ট ও করবেন না।

সর্বদা খুশি থাকতে নিজের প্রতি নির্ভরশীলতা ও সন্তষ্টি

খুশি থাকতে হলে মন খারাপের রাস্তা গুলি বন্ধ করতে হবে। আর মন খারাপের রাস্তাগুলি হলো মানুষের কাছ থেকে এক্সপেক্টেশন।

মানুষের চাহিদার কখনোই শেষ নেই। আর যার চাহিদা যতবেশী ভেতর থেকে সে ততটাই অতৃপ্ত। যে অল্পতে সন্তষ্ট সেই প্রকৃত সুখি।

খুব সাধারণ একটি কথা যেটি আমরা সবাই জানি কিন্ত কেও বুঝতে চেষ্টা করি না।

সামনে এগিয়ে চলার পথে আমাদের যে প্রয়োজনীয় কাজ রয়েছে সেগুলো আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। অন্যের প্রতি নির্ভরশীল হলে চলবে না।

আরো পড়ুনঃ জীবন পরিবর্তনে আইন্সটাইনের সেরা ২১ উক্তি

নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকুন আর অবশ্যই আপনার যা রয়েছে সেগুলো নিয়েই সন্তষ্ট থাকতে শিখুন।

সব থেকে বড় বাস্তবতা হলো আমাদের কখন মৃত্যু হবে আমরা কেও জানিনা। তাই আমাদের অপ্রাপ্তি গুলোকে আলাদা রেখে প্রাপ্তি গুলোর জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

বেশিরভাগ সময়েই আমরা অপ্রাপ্তিগুলোর দিকে বেশি ফোকাস করে নিজেদের হতাশাগ্রস্ত করে ফেলি।

ধৈর্য ধারণ করুন

সময় বদলাবেই, এটাই সময়ের নিয়ম। খারাপ সময়, দুঃখ-কষ্ট বা স্ট্রাগল করার সময়ও কেটে যাবে। কখনোই হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। মানুষের জীবনে নানা ধরনের বিপদ আসে।

have patience in order to stay happy

এমন এমন বিপদ আসে যেগুলো সে ভাবতেও পারেনি, তবে কোন কিছুই স্থায়ী নয়। সময় ঠিকই সব ঠিক করে দিয়ে যায়। সেই সময়টায় শুধু নিজেকে শক্ত থাকতে হবে।

খুশি থাকা মানে এই নয় যে আপনি সব সময় আনন্দের মধ্যে থাকবেন। দুঃখের সময় বা বিপদে ধৈর্য ধারণে এক প্রকার সেলফ স্যাটিসফেকশন রয়েছে । এটাই হ্যাপিনেস। আর বিপদ কেটে যাওয়ার পর আপনি বুঝতে পারবেন ধৈর্য কতটা সাহায্য করেছিলো।

সব সময় খুশি থাকা ও সোস্যাল মিডিয়া

The influence of social media is unbelievable. It’s sad to see – it’s a fake life that some people live.

– Virgil van Dijk

কখনো কি দেখেছেন কোন সেলিব্রেটি যাদের আপনি ফলো করেন তারা খুব কস্টে দিন পার করছে এরকম পোস্ট দিতে?

কখনো দেখেছেন কোন সেলিব্রেটিকে ছ্যাকা খাওয়া পোস্ট দিতে?

সোস্যাল মিডিয়ায় বেশির ভাগ মানুষই এক অদ্ভুদ রকমের “সেলফ মার্কেটিং” এর খেলায় ব্যস্ত। যে যেভাবে পারছে শো অফ করে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেগুলো ফেইক।

আর সেই ফেইক শো অফ গুলো দেখে আমাদের নিজেদের নরমাল লাইফের প্রতি বিতৃষ্ণা আরো বেড়ে যায়।

সোস্যাল মিডিয়াকে কখনোই সিরিয়াস্লি নেয়া উচিত নয়। আপনার যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করুন।

রিসার্চ এটাও বলে যে সোস্যাল মিডিয়া আসক্তি আর ড্রাগস আসক্তি প্রায় একই। সোস্যাল মিডিয়ার বেস্ট ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই পোস্ট টি পড়ে নিতে পারেন।

প্রোডাক্টিভ ফেসবুকিং – জীবন পরিবর্তনে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট

আর ভুলেও অন্যের লাইফের সাথে নিজের লাইফ কখনোই কম্পেয়ার করতে যাবেন না। প্রত্যেক মানুষেরই জীবনে কস্ট থাকে। কস্ট না থাকলে পৃথিবীটাই ত জান্নাত হয়ে যেত।

আর সো কল্ড সেলিব্রেটি রা সাধারণ মানুষের থেকেই বেশি ডিপ্রেশন আর এঞ্জাইটিতে ভোগে। কিন্ত আমরা তাদের ফেসবুক ওয়াল বা ইন্সটা ওয়ালে সেগুলো দেখি না।

ততটুকুই দেখি যতটুকু তারা দেখায়। সেগুলো তাদের সম্পূর্ণটা নয়। মনে রাখতে হবে।

থেমে থাকবেন না

জীবনে সুখে থাকতে হলে বা সেলফ স্যাটিসফেকশন পেতে হলে কখনোই এক যায়গায় থেমে থাকবেন না। এর মানে হলো ধীরে ধীরে নিজেকে আপডেট করুন। ঠিক আপনার এন্ড্রয়েড ডিভাইসটার মত।

গতকালের থেকে আজ একটু, পরশুদিন আরেকটু এভাবে প্রত্যেকদিন নতুন নতুন কিছু শিখতে থাকুন। শেখা জিনিস গুলো বাস্তব জীবনে এপ্লাই করে তার সুফল ভোগ করতে থাকুন।

ধীরে ধীরে দেখবেন নিজের প্রতি একটা স্যাটিসফেকশন তৈরি হতে থাকবে।

বিরক্তি বা একঘেয়েমি দূর করতে

অতিরিক্ত বিনোদন যেমন খারাপ তেমনি বিনোদনের অভাবও বিরক্তির কারণ।

বিরক্তি দূর করতে চাইলে সব কিছুর মধ্যে একটা ব্যালান্স নিয়ে আসতে হবে। একটা উদাহরণ দিইঃ

ধরুন একজন ব্যক্তি মদ পানে অভ্যস্ত, তার আর ১ বোতল মদে নেশা হয় না। প্রথম দিকে হাফ বোতলেই নেশা হয়ে যেত।

আবার যে নিয়মিত মদ খায়না তার ২-৩ ঢোকেই নেশা হয়ে যায়। (মদ পান হারাম, এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর)

তাই আপনি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ফেসবুক এর মিমস গুলো স্ক্রল করতে পারেন। বা নির্দিষ্ট সময় টিভি দেখতে পারেন বা ইউটিউব চালাতে পারেন।

অতিরিক্ত ইউটিউব, টিভি, নেটফ্লিক্স আপনার ডেইলি কাজগুলোকে বোরিং বানিয়ে দেবে। এই সুযোগ টা দেবেন না।

সাইন্টিফিকালি এর ব্যখ্যা রয়েছে।

আমাদের ব্রেন সবসময় খুশির হরমোন “ডোপামিন” রিলিজ চায়। তাই যে কাজে ডোপামিন বেশি রিলিজ হয় আমরা সেই কাজে মজা পাই আর অভ্যস্ত হয়ে যাই।

আর বাকী কাজগুলো আমাদের কাছে বোরিং মনে হয়। তাই অতিরিক্ত ডোপামিন এর অপব্যবহার বন্ধ করলে অনেকটা বোরিং নেস কেটে যাবে।

এক্ষেত্রে আপনার সকল গুরুত্বপূর্ণ আর প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে করে নিতে পারেন। তারপর দিনের শেষে অন্য কাজগুলো করবেন।

ব্যয়াম ও খাবার

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এটা সবথেকে বেশি জরুরী। কারণ আপনি যদি শারিরীক ভাবে সুস্থ না থাকেন, তাহলে আপনি যত চেষ্টাই করেন আপনি সুখে থাকতে পারবেন না।

exercise on a daily basis to stay happy

আর শারিরীক ভাবে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত শরীরচর্চা আর সুষম খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।

দিনে খুব সামান্য সময় ৩০/৪০ মিনিট শরীরচর্চার পিছনে ব্যয় করলে যথেষ্ট। আর খেয়াল রাখবেন প্রতিদিন যেন প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেড এর একটা ব্যলান্স ডায়েট থাকে।

আর অবশ্যই প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

অন্যের কথার ইফেক্ট

ভাইরে ভাই পৃথিবীতে এত মানুষ আর এত তাদের কথা!

আমাদের দেশের মানুষ একটু বেশিই অন্যের জীবন নিয়ে চিন্তিত মনে হয়। কারো অবস্থান না জেনেই জাজ করতে বসে যায়।

আর বেশিরভাগ সময় মানুষ আমাদের নিয়ে নেগেটিভ কথা বলে থাকে। পজিটিভ কথা বলার মানুষ নেহাতই কম।

তারা কখনোই ভূল টা পয়েন্ট করে বুঝিয়ে দেবে না। শুধু দোষ ই ধরবে। শোধরাতে কি করতে হবে সেটাও কিন্ত বলবে না।

তাই খেয়াল রাখতে হবে এইসব মানুষের কথার ইফেক্ট যেন আমাদের মধ্যে না পড়ে।

শুনুন। যদি সত্যিই নিজের দোষ মনে হয়, শোধরানোর চেষ্টা করুন। পালটা তর্ক করতে যাবেন না।

Society is nothing but a puppet

 

নিয়মানুবর্তিতা (Discipline)

আমি বলছি না প্রতিদিন ১০ টায় ঘুমান ৪ টায় উঠুন।

তবে খেয়াল রাখবেন এরকমও যেন না হয় যে আপনার ঘুমোতে ঘুমোতে রাত ১-২ টা আর উঠতে উঠতে ১১-১২ টা।

জীবনটাকে ছ্যাড়াব্যাড়া করবেন না।

নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া লংটার্ম হ্যাপিনেস বা সুখি থাকার বিষয়টা এচিভ করা সম্ভব নয়।

আপনি যদি সকালের খাবার দুপুরে খান, দুপুরের খাবার সন্ধ্যায় আর সন্ধ্যার খাবার মাঝ রাতে তাহলে কিভাবে হবে?

যতটুকু সম্ভব নিয়মানুবর্তিতার চর্চা করতে শুরু করুন।

be discipline to stay happy

শেষ কিছু কথা

জীবনে সুখী হওয়ার কোন রকেট সাইন্স নেই। জীবনের প্রায় সব দিক থেকে আপনাকে লড়াই করে যেতে হবে আর এর মধ্যেই সেলফ স্যাটিসফেকশন খুজে নিতে হবে।

তাহলেই আপনি সুখি হতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

দীর্ঘ পোস্ট টিতে কোন ভুল ভ্রান্তি থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান বা এই পয়েন্ট গুলো ছাড়াও কোন পয়েন্ট এড করতে চাইলেও কমেন্ট করতে পারেন।

অসংখ্য ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

পড়তে ও লিখতে ভালোবাসি

Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Most Voted
Newest Oldest
Inline Feedbacks
View all comments
Tauhid al araf Shafol
Tauhid al araf Shafol
11 days ago

অসাধারণ বিশ্লেষণধর্মী একটি ইউনিক লেখা, আজ পর্যন্ত এরকম সুক্ষ্ম বাস্তবতা সম্বলিত মোটিভেশনাল লেখা পাইনি। এগিয়ে যাও। আরো ভালো গবেষণা করো, পড়াশুনা কর।

1
0
আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণাx