আজকের তারিখঃ19 June, 2020

মায়ের হাতের রান্না এত সুস্বাদু হয় কেন?

কেন মায়ের হাতের রান্না এতটা সুস্বাদু হয়? নিজেকে কখনো প্রশ্ন করেছেন কি? আমরা প্রায় সবাই জানি মা যখন যত্ন করে রান্না করে তার সেই রান্না যেকোন নামিদামি ৫ তারকা হোটেলের রান্নাকেও হার মানায়।

যদিও আমাদের মা প্রোফেশনাল কোন রাঁধুনিও নয়। আমাদের অনেকের মা চাকুরীজীবী হওয়া স্বত্বেও যখন যত্ন নিয়ে রান্না করে, তার হাতের রান্না যেন অমৃত মনে হয়।

এর পিছনে একটি যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। আজ সেই কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করব। একটু সময় নিয়ে সম্পূর্ণ পোস্ট টি পড়বেন।

মা এর হাতের রান্নার গোপন রহস্য

মায়ের হাতের রান্নার সুস্বাদু হয় যে কারণে

গ্রিক শব্দ মেরাকি (Meraki) এর অর্থ হলো কোন কাজ করার সময় নিজের ভালোবাসা আর ইমোশন ইনভেস্ট করা। (Doing something with love with a piece of soul)

ইমোশন্স, হোক সেটা লাভ বা হেট। আমাদের কাজের মাধ্যমে ট্র্যান্সফর্ম হয়।

বিখ্যাত কবিগণ তাদের ইমোশন্স তাদের কবিতায় ট্র্যান্সফর্ম করেছেন। বড় বড় লেখক সাহিত্যিক যারা সত্যিকার অর্থেই লিখতে ভালোবাসতেন তাদের লিখনিতেও তাদের ভালোবাসার ছাপ রয়ে গিয়েছে।

মানুষ যেকোন কাজের মাধ্যমে তার আবেগশক্তি কে প্রবাহিত করে।

এখনও পরিষ্কার হচ্ছেনা বিষয় টা? উদাহরণ দিই।

তাজমহল বানাতে খরচ হয়েছিলো প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আর সময় লেগেছিলো ২০ বছরেরও বেশি। আর সেই সময় এটা কেও কল্পনাও করতে পারে নি।

তাজমহল তৈরিতে শাজাহানের আবেগশক্তি প্রবাহিত হয়েছিলো আর এই তাজমহল এখন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি।

এরকম আরো শত শত উদাহরণ রয়েছে।

যারা তাদের ভালোবাসা, তাদের ইমোশন তাদের কাজের মধ্যে প্রকাশ করেছে। আর এভাবেই মানুষ তার আবেগশক্তিকে কাজের মধ্যে প্রবাহিত করে।

পৃথিবীর বিখ্যাত পেইন্টার, মিউজিশিয়ানরা আবেগশক্তির ব্যবহার করে সব থেকে বেশী।

মজার বিষয় হলো বেশীর ভাগ মিউজিশিয়ানদের হিট গান গুলো তৈরি হয়েছিলো কারো প্রতি অবাধ ভালোবাসা বা ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যমে।

মানুষের আবেগশক্তি তার কাজের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ঠিক সেভাবেই মায়ের হাতের রান্নাও হয় সব থেকে সুস্বাদু।

যখন মা নিজের পরিবারের প্রতি সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে রান্না করে, তখন তার এটেনশন লেভেল, স্কিল লেভেল যেকোন মাস্টারসেফকেও হার মানায়। আর এভাবেই মায়ের হাতের রান্না হয়ে ওঠে সব থেকে সুস্বাদু।

মানুষ তার ইমোশনাল এনার্জি অনেক বাজে ক্ষেত্রে অপচয় করে। শুধু বাজে ক্ষেত্রেই নয়, কিছু ক্ষেত্রে ভূল মানুষের প্রতিও আমাদের ইমোশনাল এনার্জি বা আবেগশক্তির অপচয় ঘটে।

এই আবেগশক্তি টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর গোপন একটি বিষয়, যেইটা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই।

তবে একটু নিজের দিকে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, যেই কাজটা আপনি করতে ভালোবাসেন সেই কাজটা আপনি অন্য ১০ জন লোকের থেকে অনায়াসে সহজে করতে পারবেন।

আপনি যাকে ভালোবাসেন তার প্রতি আপনার মধ্যে আলাদা একটা এনার্জি কাজ করে।

0
তাই নয় কি?x

আমার ক্ষেত্রেও এরকম হয়,

আমি ক্রিকেট খেলতে প্রচণ্ড পরিমানে ভালোবাসি আর আমার কাছে অনেকটা টাইমিং করে চার- ছয় হাকানো অনেকটা সহজ বিষয়। আর আমার থেকেও স্বাস্থ্যবান- পেশীশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিও আমার মত টাইমিং করে চার- ছয় হাকাতে ব্যর্থ হয়।

আমি লিখতেও ভালোবাসি, আর আমি আশা করি আমার লিখনিও আপনাদের অনেকটা পছন্দ হয়।

Meraki দা পাওয়ার অফ লাভ

মায়ের হাতের রান্নার ভালোবাসার শক্তি

বর্তমান পৃথিবীতে যত সফল ব্যক্তিবর্গ রয়েছে, যেমনঃ জাকারবার্গ, বিল গেটস, জেফ বেজোস, ইলোন মাস্ক ইত্যাদি মানুষের জীবনী পড়লে একটা জিনিস সব যেইটা সবার মধ্যেই পাবেন, সেটি হলো তাদের কাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

তাদের ইমোশনের অনেকটা অংশ জুড়েই ছিলো তাদের কাজ। আর নিঃসন্দেহে তাদের ইমোশনাল এনার্জি তাদের হার্ডওয়ার্কের মাধ্যমে ট্র্যান্সফার্ম হয়েছে।

যেকোন কাজের ক্ষেত্রে যদি আমরা আমাদের ব্রেইনের সাথে সাথে ভালোবাসা, ভালোলাগা ইত্যাদি আবেগশক্তি ব্যবহার করে কাজ করি তখন যেকোন কাজ আমাদের কাছে অনেকটা সহজ আর মজার মনে হয়।

আবেগশক্তির অপব্যবহার

সিগারেটের ধোয়ায় আবেগশক্তিকে উড়িয়ে নষ্ট করবেন না। আমাদের মধ্যে অনেকেই কোন বিশেষ কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আমাদের আবেগশক্তির অপচয় করে থাকি।

ইমোশনাল শক্তির অপব্যবহার

ড্রাগস, সিগারেট ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের আবেগশক্তির ভয়াবহ ধরণের অপচয় হয়।

এর বাইরেও কারো প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা বা ঘৃণার মাধ্যমেও আবেগশক্তির অপচয় হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে।

আমরা মানুষ আর আমাদের শক্তিও অসীম নয়। আবেগশক্তিকে আপনার প্যাশন, ড্রিম ইত্যাদি পূরণে কাজে লাগান। আপনার দৈনন্দিন কর্তব্য আরো সহজ আর সুন্দরভাবে করতে চাইলে ইমোশনাল ট্র্যান্সফর্মের বিকল্প নেই।

আরো পড়ুনঃ নিজের জীবন নষ্ট করার সেরা ৫ উপায়

শেষ কিছু কথা

‘মা’ আমাদের জন্য তার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে রান্না করেন আর সেজন্যই তার হাতের রান্না এতটা স্বাদের হয়।

আমি জানিনা আমি আপনাদের বুঝাতে পেরেছি কিনা!

এই বিষয়টা আপনাদের কাছে অনেকটা নতুন আর আমি কিছুটা ঘাটাঘাটি আর বিশ্লেষণ করে এই বিষয়টা সম্পর্কে প্রথম ধারণা পেয়েছিলাম। আর তারপরেও আরো বিস্তৃত ভাবে জানার চেষ্টা করেছি।

আর এটা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে মানুষের কাজের মধ্যে তাদের আবেগশক্তি প্রবাহিত হয়। কোন কল্পনা নির্ভর বিষয় নয়। আর আমি ত আপনাদের প্রমাণসহ উদাহরণও দিয়ে দিলাম।

আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে, অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। আপনার কমেন্ট আমাদের অনুপ্রেরণা।

আর ভালো লেগে থাকলে বন্ধু-বান্ধব, পরিবারবর্গের সাথেও শেয়ার করুন। সময় নিয়ে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

আরো পড়ুনঃ প্রোডাক্টিভ ফেসবুকিং – জীবন পরিবর্তনে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট

পড়তে ও লিখতে ভালোবাসি

Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Most Voted
Newest Oldest
Inline Feedbacks
View all comments
Jakir
Jakir
18 days ago

Good
Best of luck Readand work team

2
0
আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণাx