আজকের তারিখঃ20 June, 2020

অনুপ্রেরণামূলক ব্যর্থতার গল্প – যেভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলারে Pathao Service

এত কস্ট করে লেখাপড়া করালাম তুমি কেন এখন ডেলিভারি বয় হয়ে গেলা? Hussain M Elius (CEO Of Pathao) কে তার মা বলছিলো।

সময়টা ২০০৮, ইউনিভার্সিটির প্রথম দিকে। ওয়েবসাইট ডিজাইন দিয়ে শুরু হয় উদ্যক্তা হয়ে ওঠার গল্প। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতেন Hussain M Elius

এবং ডিজাইন শিখতেন গুগল থেকে। ক্লায়েন্ট দের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করতে হয়, কিভাবে কাজ পাওয়া যায় সেগুলো শেখার জন্য কোন ট্রেনিং নেন নি। যখনই যা প্রয়োজন পড়ত গুগলের সাহায্য নিতেন।

quote by hussain m elius

The best thing about Google is you can learn anything you want – Hussain M Elius

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার এর সূচনা হয়েছিলো ২০০৮ সালে। তখন থেকেই নতুন নতুন মানুষদের সাথে কিছুটা কানেকশন বানাতে শুরু করলেন, কিছুটা নেটওয়ার্কিং শুরু করলেন।

পাঠাও (Pathao) শুরুর আগে

এরপর Hussain M Elius এবং তার বন্ধু মিলে একটা কম্পানি দেয় তার নাম ছিলো “কাইজু থিমস” । বিভিন্ন ওয়েবসাইটের টেমপ্লেট তৈরি হতো সেখানে।

অনেকটা ভালোই চলছিলো “কাইজু থিমস”। ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমার দের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলো। অনেক ক্লায়েন্ট তৈরি হয়েছিলো।

কিন্ত “কাইজু থিমস” নিয়ে বেশিদূর আগান নি, ওয়েবসাইট টেমপ্লেট তৈরির কাজগুলো করে তিনি খুব একটা মজা পেতেন না। “কাইজু থিমস” এর ব্যপারটা সেখানেই শেষ।

সব সময় তার ইচ্ছা ছিলো কিভাবে তার কোন সার্ভিসের মাধ্যমে লোকাল প্রবলেমস গুলো সল্ভ করা যায়।

এরপর ২০১২ এ আবারো আরেকটি কম্পানি দাড় করানোর চেষ্টা করেন হুসাইন এম ইলিয়াস। কম্পানিটির নাম ছিলো “ডুগডুগি ডট কম”। স্পটিফাই, সাউন্ডক্লাউডের মত অনলাইন গান শোনার প্ল্যাটফর্ম।

কিন্ত “ডুগডুগি ডট কম” ও সেভাবে উঠে দাড়াতে পারে নি। মূল কারণ হিসেবে সে বলেন, সেই সময় টা ছিলো ২০১২ আর তখনও ইন্টারনেট সেভাবে সব যায়গায় ছড়িয়ে পড়ে নি।

মানুষজন মাত্র ডায়াল আপ থেকে ওয়াইম্যাক্স আর ব্রড ব্যান্ড এ যাওয়া শুরু করেছিলো।

তাই ইউনিক আইডিয়া স্বত্বেও অসময়ের কারণে ব্যর্থ হয় “ডুগডুগি ডট কম” । তার মতে, প্রোডাক্ট টা ভালো ছিলো কিন্ত মার্কেট টা তখনও রেডি ছিলো না।

এরপর আবারও আরেকটি নতুন বিজনেস আইডিয়া নিয়ে হাজির Hussain M Elius । একটা মানুষ আর কতবার নতুন কিছু চেষ্টা করবে?

“ডুগডুগি ডট কম” ফেইল হওয়ার পর তিনি আবারও আরেকটি নতুন কম্পানি দাড় করালেন, যার নাম ছিলো “যেতে চাও ডট কম”

ঢাকা শহরের বিভিন্ন ইভেন্ট গুলো নিয়ে ওয়েবসাইট টি তৈরি হয়েছিলো। কখন কোথায় কোন ইভেন্ট সেগুলো মানুষকে এক প্ল্যাটফর্মে জানানোর চেষ্টা করছিলেন।

কিন্ত “যেতে চাও ডট কম” সেভাবে সাড়া ফেলতে পারে নি। আর এই নতুন প্রজেক্টে তারা সেভাবে আয়ও করতে পারছিলেন না।

অতঃপর “যেতে চাও ডট কম” কেও চলে যেতে হলো।

তারপর পাঠাও শুরুর আগে তার আরেকটি রাইড শেয়ারিং কম্পানি ছিলো যার নাম ছিলো “যাবেন”। এই রাইড শেয়ারিং টা ছিলো সিএনজি ভিত্তিক।

২০১৪ সালে কাস্টমার দের জন্য ইউএসএসডি কোডে লোকেশন ডায়াল করে সিএনজি ড্রাইভার দের সাথে কন্টাক্ট করার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। তখনো এপ রিলিজ হয় নি। কারণ বেশিরভাগ সিএনজি ড্রাইভার দের কাছে স্মার্ট ফোন ছিলো না।

এরপর “যাবেন” ও ব্যর্থ হয়। কারণ সিএনজি ড্রাইভার দের কাস্টমারের কোন অভাব ছিলো না। আর তারা যেভাবে কাস্টমার নিত সেভাবেও অভ্যস্ত ছিলো।

নতুন একটা উপায়ে কাস্টমার নেয়া সিএনজি ড্রাইভার দের কাছে বাড়তি ঝামেলার মত।”যাবেন” সার্ভিস টা কাস্টমার দের প্রয়োজন ছিলো কিন্ত সিএনজি ড্রাইভার দের প্রয়োজন ছিলো না।

তাই “যাবেন” এর প্রজেক্ট টাও ব্যর্থ হয়।

২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অনেক নতুন নতুন আইডিয়ায় একটা বিজনেস দাড় করানোর চেষ্টা করছিলেন Hussain M Elius

এরপরই Pathao এর পথ চলা। প্রথম দিকে Pathao ও সেভাবে সাড়া ফেলতে পারে নি। একটা গ্যারেজে ছিলো Hussain M Elius আর তার বন্ধু Sifat Adnan এর Pathao এর অফিস।

প্রতিদিন সকালে গ্যারেজ এ ঢুকে অফিস খুলত, তারপর কাছাকাছি অন ডিমান্ড ডেলিভারি দেয়া হতো। আবার সারাদিন আশে পাশে বিভিন্ন যায়গায় ডেলিভারি দেয়ার পর গ্যারেজ বন্ধ করে চলে যেতেন।

এসবের মধ্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি আর মাস্টার্স টাও কমপ্লিট করে ফেলেন। পড়াশোনা শেষ আর বাসা থেকে প্রচন্ড চাপ। চাকরি করেনা কেন, এত কস্ট করে পড়াশোনা করালাম তুমি কেন এখন ডেলিভারি বয় হয়ে গেলা?

পাঠাও (Pathao) সার্ভিসের এর পথ চলার শুরু

২০১৫ সাল পর্যন্ত Pathao ও সেভাবে সাকসেস্ফুল হয়ে উঠছিলো না।

তারপর সেই সময় Hussain M Elius মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে আরো বেশি পড়াশোনা শুরু করলেন। তখনই আবার ই- কমার্স বিজনেস শুরু হচ্ছিলো।

আর ই-কমার্সের জন্য ডেলিভারির প্রয়োজন ছিলো আর সময়ের সাথে মিলে যায় Pathao এর সার্ভিস। সেই থেকে পথ চলার শুরু।

তখনো Pathao কোন ব্র্যান্ড হয়ে ওঠেনি, এপ ছিলোনা, ওয়েবসাইট ও ছিলো না। শুধুমাত্র একটা ফেসবুক পেজ ছিলো।

আর টেকনোলজিস সাপোর্ট ও ছিলো না সেরকম। এক্সেল শিটে লিখে লিখে অর্ডার ট্র্যাক করা হতো।

কোন প্রোডাক্ট কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে সব নিজেদেরই ঠিক করতে হতো গ্যারেজের ভিতরে। এবং তারা নিজেরাও প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিত।

একটা বিজনেসের সেলস, মার্কেটিং, ফিন্যান্স প্রায় সব গুলো দিক নিজেদেরই সামলাতে হতো।

আর এভাবেই পাঠাও (Pathao) সার্ভিস খুব ধীরে ধীরে, অনেক পরিশ্রমে উপরের দিকে উঠতে শুরু করে।

Pathao এর কিছু পরিসংখ্যান

আর কোন শর্ট কাট ওয়েও ছিলো না। শূন্য থেকে সিড়ি বেয়ে আজ ২০২০ এ ফোর্বসের তালিকায় Hussain M Elius আর তার ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম্পানি Pathao

ফোর্বসের তথ্যমতে তাদের বর্তমান মার্কেট ভ্যালু ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

মাত্র তিন বছরেই ৮২০ কোটি টাকা মূল্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলো Pathao আর তাদের এপ প্রায় ৫০ লক্ষ্যেরও অধিক বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

শুধু মাত্র ড্রাভারদের জন্য এপ ডাউনলোড করা হয়েছে ১০ লক্ষেরও বেশি বার।

আজ তারা রাইড শেয়ারিং, ফুড শেয়ারিং, কুরিয়ার, ই কমার্স লগিস্টিক আর রিসেন্টলি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ডেলিভার সার্ভিস ও চালু করেছে তারা।

আর দেশের সীমানা পেরিয়ে নেপালেও সফলতার সাথে চলছে Pathao সার্ভিস।

আরো পড়ুনঃ সবসময় খুশি থাকার উপায় – (অবশ্যই পড়ুন)

পড়তে ও লিখতে ভালোবাসি

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণাx