আজকের তারিখঃ19 June, 2020

নিজের জীবন নষ্ট করার সেরা ৫ উপায়

কি হবে এত কিছু করে? দুনিয়া ত অনেক কঠিন। এত কঠিন কাজ আপনাকে দিয়ে হবে না।  তাই দুনিয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করার দিকে ফোকাস করেন।

এটাই সব থেকে সহজ কাজ। আর এই কাজে শয়তান ২৪ ঘন্টা আপনার পাশে থেকে সাহায্য করবে।

সারাজীবন দুঃখ কস্টে কাটাতে চাইলে কিছু অভ্যাস এখনি নিজের মধ্যে গঠন করুন। অবশ্য এসব অভ্যাসের মধ্যে কিছু অভ্যাস অলরেডি আপনার মধ্যে থাকতে পারে।

জীবন নষ্ট করার উপায়, waste life

নিজের জীবন নষ্ট করতে চাইলে আপনাকে যা যা করতে হবে। অবশ্যই, অবশ্যই পোস্ট টি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।

১। ইচ্ছামত সময় নষ্ট করতে হবে

ভাই সময় আমাদের বাপের সম্পত্তি। এইখানে কেও খবরদাড়ি করার নাই। প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা পাই। ৩৬০০ মিনিট। ৮৬৬০০ সেকেন্ড। মনে হয় আমাদের কেও এই পরিমাণ টাকা দিচ্ছে আর আমরা সেই টাকা উড়াচ্ছি। সেম ফিলিং।

জীবন নষ্ট করতে চাইলে সময় নষ্ট করতেই হবে। এবং হয়ত আপনি অলরেডি এই অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে রেখেছেন। সময় নষ্ট করা পৃথিবীর অন্যতম সহজ কাজ। আসলে এইটা একটা স্কিল। আর এই স্কিল কাওকে শেখাতে হয়না।

শয়তান নিজ দায়িত্বে আপনাকে এই স্কিল টা পারদর্শী করে তোলে। সারাদিন ফেসবুকিং, ইউটিউবিং, হাজার হাজার ইং।

এভাবে “ইং” গুলোর সাহায্যে ইচ্ছামত সময় নষ্ট করতে থাকুন। আপনার জীবন নষ্ট করলে কার কি যায় আসে! শুধু আপনার আর আপনার পরিবারের কস্ট। ব্যপার না। লেটস গো এহেড।

২। প্রচুর হিংসা করুন

ভাই ওর বাইক আছে আমার নাই। ওর আইফোন আছে আমার নাই। ওর বাবার এত টাকা, আর আমার ফ্যামিলি আমায় টাকাই দেয় না। আমার জীবনে এত দুঃখ রে ভাই। মানুষের খালি সুখ আর সুখ!

আমি কি করছি?

আমি জানিনা ভাই। কিন্ত অন্যের ভালো দেখে হিংসা করার গুণ আমাদের নিজেদের জীবন নষ্ট করার অন্যতম সেরা উপায়। শুধু দেখবেন কে আপনার থেকে বেশি রিসোর্স নিয়ে জীবন যাপন করতেছে।

যার লাইফে আপনার থেকে কম রিসোর্স, তার দিকে ভুলেও তাকাবেন না। ফেসবুকে সারাদিন স্ক্রল করবেন বিভিন্ন সেলিব্রেটির লাইফস্টাইল।

দেখবেন আর জ্বলবেন। ভবিষ্যত অন্ধকার।

প্রোডাক্টিভ ফেসবুকিং – জীবন পরিবর্তনে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট

৩। অন্যের ভুল ধরুন, অন্যের ঘাড়ে দোষ দিন

এই বিষয়টা আসলে অনেক মজার। কিন্ত এইটার ভয়াবহ দিকও আছে। আপনার দ্বারা ডেইলি যত ভুল হয় সব অন্যের দোষ দিবেন। উদাহরণ স্বরুপঃ

পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করে বাসায় বলবেন স্যার নাম্বার দেয় নি, আমার কি দোষ। দুপুর ১২ টায় ঘুম থেকে উঠে বলবেন রাতে ঘুম ধরেনি, আমার কি দোষ। গ্লাস ভেঙে বলবেন গ্লাস টা এইখানে যে রাখছে তার দোষ।

এগুলো আপনাকে শেখাতে হবেনা মনে হয়। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে আমরা অনেকেই এক্সপার্ট।

এবার আসি অন্যের ভুল ধরা। আহ! সেই জিনিস। নিজে সারাদিন ভুল করবেন সেগুলো ধরার দরকার নাই। ধরতে হবে অন্যের টা।

গভমেন্ট এই করলো কেন! মন্ত্রী ত সেই খারাপ! সালমান মুক্তাদির ত ক্যারেক্টারলেস! আয়মান সাদিক আবার কে! আমার অমুক ফ্রেন্ড স্যারের পা চেটে টপার! অরা ত চিটিং করে জিতসে!

আমরা বাঙালি। আর আমাদের সব থেকে ভয়াবহ গুণ হলো অন্যের দোষ ধরা। নিজেরা সারাদিন সালাত আদায় করিনা কিন্ত বড় বড় হুজুরদের ভুল ঠিকই ধরি। নিজেরা জীবনে অন্যকে ভালো উপদেশ দিইনা আবার সোলায়মান সুখনকেও গালি দিতে বাদ দিইনা।

৪। আলসামি ইজ লাইফ

ভাই প্রচুর আলসামি লাগে। সারাদিন খাই আর ঘুমাই। কাজ করার ইচ্ছাও নাই এনার্জি নাই। পড়তে গেলে ঘুম ধরে, ঘুমাইতে গেলে ঘুম ধরেনা। ঘুমাইতেও আলসামি।

ইউ আর অন দা ওয়ে। আলসামি আমাদের গোড়া থেকে আন প্রোডাক্টিভ করে দেয়। নিজের কোন কাজ ত হয়ই না অন্য কারো কোন উপকারও হয় না।

আলসামি প্রো ম্যাক্স এর কিছু উদাহরণঃ

  • টিভির ঘরে যেয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করবেন। সবাই হাজির হয়ার পর বলবেন অই যে রিমোট টা দাও।
  • রাত ২ টায় পিপাসা লাগলে ফোন দিবেন। বাবা মা,ভাই বোন। বাসায় যে থাকুক। বা পাশে কেও শুয়ে থাকলে ওরে ডাকবেন। গ্লাসে পানি থাকলে বলবেন গ্লাসটা আগায় দিতে। না থাকলে বলবেন ঢেলে দিয়ে আগায় দিতে।

আরো পড়ুনঃ ফ্রি অনলাইন কোর্স – শিকড় থেকে শিখুন ঘরে বসেই

৫। দীর্ঘ সুত্রিতা (Procrastination)

আমরা কম বেশি সবাই এই বিষয়টার সাথে পরিচিত। উদাহরণ দিলে বুঝবেন। একটা কাজ করতে চাইলে তখনই না করে সময়ক্ষেপণ করা।

ধরুন আপনি ঠিক করলেন কাল সকালে উঠে হাটবেন, ৭ দিন পার হয়ে গেলো হাটার খবর নাই। কিন্ত মনে মনে ঠিকই চান হাটার জন্য।

আপনি চান সালাত আদায় করতে, কিন্ত কেন যেন হয়না। পরে পরে করতে করতে জীবন কখন শেষ হয়ে যাবে বুঝতেও পারবেন না। যাই হোক দীর্ঘ সুত্রিতা বিষয়টা আসলেই খুব ভয়ানক। জীবন নষ্টে অতি সহায়ক।

নিজের কর্তব্য গুলো ফেলে রাখুন। কাল থেকে শুরু করব। আগামি সপ্তাহ থেকে। আগামি মাস থেকে শিওর। মরার পর শিওর।

আসল কথায় আসি

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনার জীবন নষ্ট করার দিকে আহ্বান করা আমার মূল উদ্দ্যেশ্য না। আমার মূল উদ্দেশ্য ছিলো এই বিষয়গুলো আপনার মধ্যেও বিদ্যমান কিনা সেটি যাচাই করানো।

আপনাকে এই পোষ্ট কে সিরিয়াস্লি নিয়ে এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ আপনার উপরেই।

একটি মজার ওয়েতে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। যেন আপনি নিজের অবস্থান বুঝে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন। অবশ্যই ইন আ পজিটিভ ওয়ে।

ভাই জীবন আসলে আমাদের বাপের সম্পত্তি না। ব্যাংক থেকে প্রতিদিন ৮৪৬০০০ টাকা ঋণ নিলে যেমন হিসাব দিতে হবে, তেমনই এই প্রতিদিনের সময়েরও হিসাব দিতে হবে।

জীবন অনেক মূল্যবান। ৪০ মিলিওন স্পার্মের সাথে লড়াই করে জন্মেছেন নিজের জীবন নষ্ট করার জন্য? অবশ্যই না। এগুলো অভ্যাস নিজের মধ্যে থাকলে আজ থেকেই শোধরানোর চেষ্টা করুন।

সারাজীবন আর মৃত্যুর পরেও সুখে শান্তিতে থাকতে চাইলে এই অভ্যাসগুলো পরিহার করতেই হবে।

হ্যাপি প্রোডাক্টিভ লাইফ!

হ্যাভ এ হেলদি এনার্জিটিক লাইফ!

পড়তে ও লিখতে ভালোবাসি

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণাx